বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান 

 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান এবং তিনি জন্ম দিচ্ছেন একের পর এক বিতর্ক। বঙ্গবন্ধু পরিষদের পদ ভাগিয়ে তিনি নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিজের রুম ভাংচুর করে সহকর্মীকে ফাঁসানোর পায়তারা করেন এবং সিসি ফুটেজ তার এই অপকর্মের সাক্ষী। তার পাশাপাশি তিনি ক্ষমতার মোহে বেপরোয়া হয়ে সেকশন অফিসারকে লাঞ্ছিত করেন এবং এই ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করেন লাঞ্ছিত সেকশন অফিসার।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে নৈতিক অবক্ষয় এবং নিয়োগ বানিজ্যের লোভে পড়ে তিনি বেরোবির গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক হয়ে বেসরকারী কলেজের প্রভাষকের (নামধারী ভিসি) নেতৃত্বে বে-আইনী বিশ্ববিদ্যালয়ের (সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়) চার নম্বর ট্রাস্টি হয়েছেন। যা বেরোবি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৯ ভঙ্গ এবং অবমাননার শামিল। বেরোবি আইন-২০০৯ এর ৪৭(৬) এ চাকুরীর শর্তাবলীতে বলা হয়েছে যে, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বেতনভোগী শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে তাহার কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ, নৈতিক স্খলন বা অদক্ষতার কারণে সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চাকুরী হইতে অপসারণ বা পদচ্যুত করা অথবা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করা যাইবে”।

জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ভোরের পাতার এক প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং তাদের অনুসন্ধানীতে তাকেই বেরোবির পতাকা বিতর্কের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ এটিএন নিউজের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রতারণার জন্যই তারা গড়ে তুলেছে বে-আইনী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবেদনের ৫০০ টাকা করে তারা অনেক হাতিয়ে নিতে পারত প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে। তিনি আরও বলেন শিক্ষা মন্ত্রণায়ের নির্দেশক্রমে এবং ইউজিসির সমন্বয়ে কমিঠি গঠন করা হচ্ছে, যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে; পাশাপাশি তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান”।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক বর্ষীয়ান নেতার বলেন, “এই মশিউরেরাই একের পর এক দুর্নাম ছড়াচ্ছে এবং জাতির জনকের নাম ব্যবহার করে গড়ে তুলছে তাদের প্রতারণার দুর্গ, তারই একটি উদাহরণ হল- সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়; তিনি আরও বলেন- এদের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করব, এদের মূলৎপাটন করতে হবে”।

উল্লেখ, উপরোক্ত কারণে গত বছর চাকুরী হারিয়েছেন জাহাঙ্গীর সনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক এবং কয়েকমাস আগে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও লেখার কারণে চাকুরী হারিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ সোহরাব হোসেন বলেন, মশিউর রহমান চাকুরীর শর্তাবলী সুস্পষ্টভাবে লঙ্গন করেছেন; প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত তাই প্রমাণ করে। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আইনের যথাযত বাস্তবায়ন হলে চাকুরী হারাবে গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান।

আরও পড়ুন