মসজিদে বিস্ফোরণ, তিতাসের ৪ প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে

মসজিদে বিস্ফোরণ, তিতাসের ৪ প্রকৌশলীসহ ৮ জন রিমান্ডে

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিআইডির হাতে গ্রেফতার ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরআগে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিতাসের প্রকৌশলীসহ ৮ জনকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের প্রকৌশলীসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডির নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে সিআইডির ডিআইজি মঈনুল হাসান এক ব্রিফিং করে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিআইডির এডিশনাল ডিআইজি ইমাম হোসেন ও তদন্ত কর্মকর্তা বাবুল হোসেনসহ অনেকে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা জোনের তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, ফতুল্লা জোনের সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তিতাস৷

সিআইডির ডিআইজি মঈনুল হাসান বলেন,

তদন্তে তিতাসের বহিস্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার বিষয়টি প্রমান পাওয়া গেছে। তার প্রেক্ষিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিতাসের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে৷ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্য কারও অবহেলার সম্পৃক্ততা পেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে৷

এদিকে বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার খানপুর, তল্লা এলাকায় বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে গত ৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টায় বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় ৩২ জন মুসল্লি মারা গেছেন। এছাড়া মসজিদের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে তিতাসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। মসজিদের বিস্ফোরণজনিত ঘটনা ফতুল্লা জোনের আওতাধীন এলাকায় হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ফতুল্লা জোনের কর্মকর্তা ও কামচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে হওয়ায় ৮ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে উৎসারিত আগুন এবং তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে মসজিদের অভ্যন্তরে জমা হওয়া গ্যাস থেকে বিস্ফোরণটি হয়েছে।

মসজিদের পাশেই মাটি খুঁড়ে গ্যাস লাইনের পাইপে ছয়টি লিকেজ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।

সূত্রঃ জাগো নিউজ

আরও পড়ুন