হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিবেশ কি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে

হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিবেশ কি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে

তিন দশকের বেশি সময় ধরে মহাপরিচালকের পদে থাকা আহমদ শফীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার একদিন পরই তিনি মারা যান।

বাংলাদেশের হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু, এরপর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদে বড় ধরণের রদবদলের পর মাদ্রাসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

 

তিন দশকের বেশি সময় ধরে মহাপরিচালকের পদে থাকা আহমদ শফীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার একদিন পরই তিনি মারা যান।

 

শনিবার তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মাদ্রাসার নেতৃত্ব কারা দেবেন সেটা নিয়ে বিকেল ৪টার দিকে শুরা কমিটির বৈঠক বসে যা একটানা রাত ৮টা পর্যন্ত চলে।

 

সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার তিনজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক যৌথ সিদ্ধান্তে মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

 

এছাড়া জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদরাসার শিক্ষা সচিব বা প্রধান শায়খুল হাদিস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যাকে কিনা তিন মাস আগে সহকারী পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

 

মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিরোধ চলে আসছিল তার মধ্যে জুনায়েদ বাবুনগরীর নাম বহুভাবে উঠে এসেছে।

 

আহমদ শফীর মৃত্যুর পরপরই জুনায়েদ বাবুনগরীকে পুনর্নিয়োগ দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হলেও সব সিদ্ধান্ত সমঝোতার ভিত্তিতে এবং কওমি মাদ্রাসার নিয়মানুযায়ী হয়েছে বলে জানান সেখানকার শিক্ষক আশরাফ আলী নাজিমপুরি।

 

তিনি বলেন, “কওমি মাদ্রাসার নীতি আদর্শের একটি হল, কোন প্রিন্সিপাল মারা গেলে তার দাফনের আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে পরবর্তীতে কে দায়িত্ব পাবেন। এখানে তো দাফনের পরেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর জুনায়েদ বাবুনগরীকে যেই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তাকে ওই পদে নয় বরং ভিন্ন আরেকটি পদে বসানো হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে শুরা কমিটি, যা নিয়ে কারও কোন দ্বিমত থাকার কথা না।”

মাদ্রাসার নেতৃত্ব নিয়ে কয়েক মাস আগে জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারীদের সঙ্গে আহমদ শফী অনুসারীদের বিরোধ দেখা দেয়।

 

অভিযোগ ওঠে, আহমদ শফী এবং তার ছেলে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

 

এ নিয়ে দ্বন্দ্বের এ পর্যায়ে গত জুনে শুরা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় আহমদ শফী আজীবন মুহতামিম পদে থাকবেন এবং সহকারী পরিচালকের পদ থেকে বাবুনগরীকে সরিয়ে দেয়া হয়।

 

এরপর শিক্ষার্থীরা আহমদ শফীর অব্যাহতি এবং তার ছেলে আনাস মাদানিকে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে বহিষ্কারসহ ছয় দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে৷

 

আহমদ শফীর মৃত্যুর পর পর নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক তাড়াহুড়া করা হয়েছে বলে মনে করছেন পলিটিকাল স্টাডিজের শিক্ষক জায়েদা শারমিন।

 

আন্দোলনকে শান্ত করার জন্য দ্রুত নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

মিস শারমিন বলেন, “নেতৃত্ব নিয়ে তো এক ধরণের টানাপড়েন ছিলই। তারমধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দিকটিও নেতৃত্ব বেছে ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এটা একটা সাময়িক প্রক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বগুলো এতো সহজে যাবে না। কারণ দ্বন্দ্বটাকে ঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা হচ্ছেনা।”

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/অনলাইন ডেস্কঃ

আরও পড়ুন