সমাজে কিশোর অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে

সমাজে কিশোর অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে

উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায় কিছু স্থানে ঘুরে দেখা যায় এই কিশোররা এলাকায় সকাল-বিকেল নয় এমনকি রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। এই উঠতি বয়সের কিশোর বা তরুনরা কখন এসব এলাকায় গাঁজা সেবন সহ মাদক কেনাবেচাও করার কথা জানতে পারা যায়।

 

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ

বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা করোনা মহামারির (কভিড-১৯)।

আর এই করোনা মহামারি বিস্তর ভাবে ঠেকাতে কর্মস্থলসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ।

আর এ বন্ধ থাকার কারনে উঠতি বয়সে ছেলে-মেয়ের অলস সময় কাটাতে না পেরে বিভিন্ন অপরাধ মূল কাজে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

আর এ অপরাধীরা আবার সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেই চলেছে। এরা কিশোর গ্যাং নামে পরিচিত।

রাজধানীর উত্তর সিটির কয়েক স্থান ঘুরে সরেজমিনে তথ্য মেলে এই উঠতি বয়সের ছেলে বা কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আশপাশে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে তাদের আড্ডা হিসেবে বেছে নেয় যেমন দক্ষিণখান থানাধীন উদয়ন স্কুল রোড,প্রেমবাগান কেসি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ রোড,গাওয়াই পেয়ারা বাগান,দক্ষিণখান গালর্স স্কুলরোড,আশকোনা উচারটেক,দক্ষিণখান কেসি হাপাতল রোড,আইনুছ বাগ বালুর মাঠ,চাঁদ নগর,হলান বাজার এলাকা।

উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায় কিছু স্থানে ঘুরে দেখা যায় এই কিশোররা এলাকায় সকাল-বিকেল নয় এমনকি রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। এই উঠতি বয়সের কিশোর বা তরুনরা কখন এসব এলাকায় গাঁজা সেবন সহ মাদক কেনাবেচাও করার কথা জানতে পারা যায়।

শুধু তাই নয় এরা রাস্তা দিয়ে মেয়েরা চলাচল করলেও তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে অশ্লিল ব্যঙ্গও করতে শোনা যায় এমনকি অনেক উঠতি বয়সের ছেলেদের বেপরোয়া ভাবে রাস্তা দিয়ে মটরসাইকেল চালাতেও দেখা যায়।

এর কারনে প্রায় সময় রাস্তা মটরসাইলে দূর্ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।

এ ধরনের কিশোরদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে গেলেও তার নেমে আসে নির্যাতন।

এ সমস্যা শুধু রাজধানীর দক্ষিণখান নয় সারা দেশেই উঠতি বযসের ছেলেদের এমন উশৃংখলা দেখা যায়।

গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণখান থানার পাশে উত্তরখান থানাধী এক কিশোর রাস্তায় রিক্সাওয়ালাকে মারধর করতে থাকলে এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরা পাবলি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগ প্রতিবাদ করলে উক্ত এলাকায় গড়ে ওঠা কিশোগ্যাং “দ্যা বর্স” সদস্যরা সোহাগকে মোবাইলে ডেকে আনে ও সংঘবদ্ধ হয়ে মারধরকরে এবং কিশোর গ্যাং এর সদস্য রাসেলের কাছে থাকা ধারালো ছোড়া দিয়ে সোহাগকে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে সোহাগ গুরুত্বর যখম অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যায়।

এবং পরবর্তিতে র‍্যাব-১ অনেক অনুসন্ধানের পর সোহাগ হত্যার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

এদিকে কিশোর অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলেন এই উঠতি এই কিশোররা দেশি-বিদেশি চ্যানেলের সরিয়াল দেখে এই ধরনে অপরাধ আয়ত্ত করে।

তারা আরো বলেন,শুধু তাই নয় এ ধরনে উঠতি বয়সে কিশোরা আবার কোন না কোন রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায় থেকে সমাজের বিভিন্ন ধরনে অপরাধে লিপ্ত থাকে।

এ ধরনের কিশোর বা তরুনদের আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল,মিটিংয়েও দেখা যায়।

এরা কোন অপরাধ করলে এবং প্রশাসন তাদের আটক করলেও আবার তাদের নেতা বা বড় ভাই তাদের ফোনে ছাড়াও পেয়ে যায় বলে জানা যায়।

আর এভাবেই দিনের পর দিন কিশোর গ্যাং এর অপরাধ প্রবনতা বেড়েই চলেছে।

এলাকার স্থানীয়রা বলে এটা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে প্রথমে প্রশাসনকে কঠোর হস্তে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং চিহ্নত স্থানে সাদা পোষকে প্রশাসনকে অবস্থান করতে হবে এবং সেই সাথে পরিবার ও এলাকার গন্যমান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে কিশোর অপরাধীদের সম্পর্কে সচেনতা বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন