পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও বসতবাড়িতে কারখানা বেড়ে চলেছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও দেশ জুড়ে অবাধে ব্যবহূত হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হলেও থামছে না এর ব্যবহার। এসব ঠেকানোর যেন কেউই নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর উত্পাদন না থামাতে পারলে ব্যবহারও কমবে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখন বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে পলিথিন কারখানা। পুরান ঢাকা, উত্তরখান এলাকায় গড়ে উঠেছে পলিথিনের অনেক কারখানা। নিষিদ্ধ এ পণ্যের কারখানা পরিচালনা, তৈরি ও বাজারজাত ঘিরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে এসব কারখানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরখানের মাজার রোডের তালতলা এলাকায় ‘মদিনা ফ্যাক্টরি’ নাম দিয়ে বাসাবাড়িতে চলছে পলিথিন কারখানা। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কারখানা রয়েছে। কঠিন গোপনীয়তায় শ্রমিকরা ভেতরে কাজ করেন। স্থানীয়রা জানান, রাত ছাড়া এখান থেকে পণ্য বের হয় না। প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই এই কারখানা চলছে বলে তারা জানান। একাধিক বার ফোন করেও কারখানার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফ্যাক্টরির ম্যানেজার মানিক মিয়া বললেন, ‘নিষিদ্ধ হলেও তো সবই চলে। প্রশাসনের সহযোগিতায়ই এটি আমরা চালাই। ওসি সাহেবও বিষয়টি জানেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরখান থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আমি এই এলাকায় নতুন এসেছি। তবে এখানে পলিথিন কারখানা আছে শুনেছি। আর এর জন্য একজন কর্মকর্তাকে খোঁজও নিতে বলেছি। তবে কারখানার মালিককে খুেঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উত্তরখান এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখন শব্দদূষণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে কেউ ছাড়পত্র ছাড়া এমন কারখানা পরিচালনা করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে এখনো কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এ বিষয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট শাখার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে এ বিষয়ে জানার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট শাখা ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানের কাছে গেলে তিনি বলেন, ‘আপনার কিছু জানার থাকলে লিখিত প্রশ্ন করতে হবে। এছাড়া আমরা কথা বলতে পারব না।’

সূত্র জানায়, ২০০২ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে পলিথিনের উত্পাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করা হয়। আইন বলছে, ‘সরকারনির্ধারিত পলিথিন সামগ্রী উত্পাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে প্রথম অপরাধের দায়ে অনধিক ২ (দুই) বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২ (দুই) লাখ টাকা অর্থদণ্ড (জরিমানা) বা উভয় দণ্ড এবং পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রে অন্যূন ২ (দুই) বছর, অনধিক ১০ (দশ) বছরের কারাদণ্ড বা অন্যূন ২ (দুই) লাখ টাকা, অনধিক ১০ (দশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ড (জরিমানা) বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন অপরাধীরা।’

এই আইনের পর প্রথমদিকে এর সফল প্রয়োগ হলেও গত কয়েক বছর ধরে পলিথিনের ব্যাগে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিনের কারণে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এছাড়া চাপা পড়া পলিথিন নষ্ট করছে মাটির গুণাগুণ। পলিথিন বা প্লাস্টিক বর্জ্যে নদী থেকে সাগরের পানি পর্যন্ত দূষিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার মানে বিপদ ডেকে আনা। প্লাস্টিক শরীরে ক্যানসার তৈরি করার প্রথম ১০টি কারণের একটি। পলিথিনে খাবার বহন কিংবা ফ্রিজে রাখাও ক্ষতিকর। প্লাস্টিক খাবারের সঙ্গে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এতে কিডনি ও লিভার অকেজো, বন্ধ্যাত্ব ও ভ্রূণ নষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুন