হাসপাতালে ভর্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

হাসপাতালে ভর্তি ট্রাম্প

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর জ্বর অনুভব করলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গতকাল ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিন এখানে রাখা হবে তাঁকে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো তাকে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর করোনা আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্বাসকষ্টে ভুগছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে তার উপসর্গের বিষয়ে চিকিৎসকরা কিছু জানাননি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত পরামর্শদাতা জানান, ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা গুরুত্বর এবং ক্লান্তি অনুভব করছেন তিনি।

 

তবে চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, হাসপাতালে তিনি ঠিক আছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। টুইটে ১৮ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি আমি ভালো আছি। মেলানিয়াও ভালো আছেন।

 

করোনা শনাক্ত হওয়ার পর জ্বর অনুভব করলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গতকাল ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিন এখানে রাখা হবে তাঁকে। হাসপাতালে প্রেসিডেন্টের জন্য তৈরি করা একটি দফতর থেকে নিজের অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাম্প।

 

বর্তমানে করোনাজনিত বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের তুলনায় তার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ভালো বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

 

গতকাল ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা শনাক্ত হয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হোপ হিকস করোনায় সংক্রমিত হওয়ার পর তাঁদেরও করোনা শনাক্ত হয়। সম্প্রতি ক্লিভল্যান্ডের নির্বাচনি বিতর্কসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের সফর সঙ্গী ছিলেন শীর্ষ উপদেষ্টা হোপ হিকস। মিনেসোটায় সভা থেকে ফেরার পথে অসুস্থ বোধ করেন হিকস। বিমানেই আইসোলেশনে নেয়া হয় তাকে। ট্রাম্প, মেলানিয়া ছাড়াও হিকসের সংস্পর্শে আসা অন্য কর্মকর্তাদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে প্রেসিডেন্ট করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে নানা মহলে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী ট্রাম্প গুরুতর অসুস্থ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারবেন। আর দুইজনই অসুস্থ হলে সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা যাবে হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কাছে।

 

এর আগে, ১৯৮৫ সালে অস্ত্রোপচারের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সাময়িক ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন সে সময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে। পরে ২০০২ ও ২০০৭ সালে চিকিৎসার প্রয়োজনে জর্জ ডব্লিউ বুশকেও দুইবার অস্থায়ীভাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হয়।

আরও পড়ুন