কষ্টের সময় পার করছে মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তরা

নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে, চাহিদা মেটাতে সঞ্চয় ভাঙছে অধিকাংশ

নিত্যপ্রয়োজনী জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে, চাহিদা মেটাতে সঞ্চয় ভাঙছে অধিকাংশ

 

কাজি আরিফ হাসানঃ

বিশ্ব করোনা মহামারিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১১ লাখের বেশি,আক্রান্ত ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৪৩ হাজার উপরে। এই করোনা মহামারি(কভিড-১৯) প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ইতিমধ্যে দেশে মৃত্যুর ৫ হাজার ৬৬০ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি। এই কোভিড-১৯ মহামারিতে প্রায় ৩ মাস সরকারি-বেসরকারি, আয়ত্বশাসিত অফিস,আদাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনীতি চাহিদাও ভেঙে পড়েছে তেমনি সাধারন মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তরা বিপাকে পড়েছে। এদিকে করোনায় মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তরা তাদের যে টুকু সঞ্চয় ছিলো তাও ভেঙে তাদের চাহিদা মিটিয়েছে। এদিকে দেশে করোনা কিছুটা সাভাবিক হলেও দেখা যায় নিত্যপ্রয়োজনীয়(চাল,ডাল,সবজি,মাছ,ভোজ্য তেল সহ অন্যান্য) জিনিসে দাম বাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে। সাধারন মানুষ তাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পারছেন না।দেখা যায় ২০১৯ সালে পিয়াজের খুচরা মূল্য ২৫০ টাকার বেশি ছিলো। এর মাঝে পিয়াজের দাম কিছুটা ১০০ টাকা কমলেও সবজির বাজার আগুন। রিকশাচালক,দিনমুজুর,স্বল্প আয়ের মানুষ, বস্তিবাসি ও গ্রামের ডাল,আলু ভর্তা,ভাতা খেয়ে কোন রকম বাঁচতো,কিন্তু সেই ১৫/২০ টাকার আলুর কেজিও ৫০/৬০ টাকা বাজারে দেখা যায়। এমকি অনেক পরিবার বর্তমান অবস্থার সঙ্গে তালমেলাতে পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যেতে দেখা যায়। খরচে তালিকা বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন মুজুরা তাদের মহাজনের নিকট থেকে উচ্চ সুদে ঋৃণ নিয়ে আবার সঠিক সময়েও ঋৃণ পরিশোধ করতে ব্যার্থ হচ্ছে। মধ্যবিত্ত – নিম্ন মধ্যবিত্তরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন দিতে ব্যার্থ হওয়ার কথাও শোনা যায়।এদিকে পোষাক তৈরি কারখানা গুলো করোনার কারনে বন্ধ হওয়ায় পোষাক কারখানা শ্রমিকরা পড়ে বিপাকে। যা কারনে করোনা কিছুটা সাভাবিক হলেও বিশ্ব অন্যান্য দেশর পোষাক তৈরির অর্ডারও বন্ধ হয়ে যায়। এই করোনা মহামারিতে আমাদের দেশ সহ বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এদিকে দেশে যখন করোনা মহামারি কিছুটা সাভাবিক হতে শুরু করেছে ঠিক তখনই দেশে কিছু সিন্ডিকেটরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বভাবিক বৃদ্ধি করে মানুষে ক্রয় ক্ষমতার বাহিয়ে হয়ে পড়েছে,যার কারনে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা অসহায় হয়ে পড়েছে। এদিকে তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কোথায় যেয়ে ঠেকবে এই সব অসহায় মানুষ? বর্তমান এ ধরনে সাধারন মানুষ দারিদ্র সিমার নিচে বসবাস করছে।এমনকি এই করোনা মহামারিতে সরকার ভাবে অসহায় মানুষের জন্য অনুদান দিলেও সেখানে দেখা মেলে রাজনৈতিক প্রভাব। এদিকে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় যেখানে মানুষে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে সেখানে রাজনৈতিক বা জনপ্রতিধিরা মানুষে নিয়ে উল্লাস করে। এটা কি কি সে স্বাধীন বাংলাদেশ নাকি সুযোগে লুটপাটের মহাউৎসবের দেশ?

আরও পড়ুন