একসঙ্গে ৬ এমপি করোনায় আক্রান্ত

একসঙ্গে ৬ এমপি করোনায় আক্রান্ত

আরও ছয়জন সংসদ সদস্য (এমপি) করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।এদের মধ্যে একজন এমপি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন উপমন্ত্রী ও একজন সদ্য শপথ নেয়া সংসদ সদস্যও রয়েছেন।

আরও ছয়জন সংসদ সদস্য (এমপি) করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

এদের মধ্যে একজন এমপি দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া একজন উপমন্ত্রী ও একজন সদ্য শপথ নেয়া সংসদ সদস্যও রয়েছেন।

করোনা আক্রান্ত এমপিরা হলেন- সংরক্ষিত নারী আসনের নাদিরা ইয়াসমিন জলি ও তাহমিনা বেগম; নাটোর-২ (নাটোর সদর উপজেলা ও নলডাঙ্গা উপজেলা) আসনের শফিকুল ইসলাম, পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের নুরুজ্জামান বিশ্বাস, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার।

সংসদ ক্লিনিকের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক সংসদ সদস্য করোনা আক্রান্তের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের শহিদুজ্জামান সরকার। গত ৩০ এপ্রিল তার করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরদিন ১ মে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়, তিনি করোনা পজিটিভ। ১৬ মে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এবার তিনি দ্বিতীয়বারের মতো আক্রান্ত হলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সত্যিই হতাশাজনক। দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। যেন আগের মতো আবার সুস্থ হয়ে উঠি।’

অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত আওয়ামী লীগের নুরুজ্জামান বিশ্বাস ৭ অক্টোবর এমপি হিসেবে শপথ নেন। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে যোগ দেন।

এ বিষয়ে তিনি  বলেন, ‘আমার শরীরে কোনো উপসর্গ নেই। তবুও করোনা পজিটিভ এসেছে। আমি সংসদ থেকে এ-সংক্রান্ত মেসেজ পাওয়ার পরই আইসোলেশনে আছি।’

জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসছে আগামীকাল রোববার (৮ নভেম্বর)। সন্ধ্যা ৬টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের দশম অধিবেশনটি বিশেষ অধিবেশন হিসেবে বসছে।

বিশেষ অধিবেশন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেবেন। এজন্য সংসদ ভবন এলাকা সাজানো হয়েছে নতুন সাজে।

বরাবরের মতো এবারও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অধিবেশন চলবে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

অধিবেশনের প্রথম দিন শোক প্রস্তাব ও অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। পরদিন ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। ওইদিন অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় রাজনৈতিক জীবন নিয়ে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর তা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সাধারণ প্রস্তাব আনা হবে। ওই প্রস্তাবের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আলোচনা শেষে তা পাস হবে।

এ অধিবেশন উপলক্ষে সাংবাদিকসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা চলছে।

করোনাকালীন বিগত তিনটি অধিবেশনের মতো আগামী অধিবেশনেও সংসদ সদস্যরা রোস্টারভিত্তিতে অংশ নেবেন। রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার দিন ৯ নভেম্বর করোনা নেগেটিভ সব সংসদ সদস্য অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন।

এদিন প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, বিদেশি কূটনীতিক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সমাজের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা সংসদ গ্যালারিতে উপস্থিত থাকবেন।

এই অধিবেশনে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২০’ পাসের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এর আগে ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদে ১১টি বিল পাস ও উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল ২০২০’ ছাড়াও ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ২০২০’ রয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই বিলটির খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ইয়াবার উৎপাদন, পরিবহন, বিপণনের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ২০১৮ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮’ পাস হয়। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর করা হয়।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২২ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন (সপ্তম অধিবেশন) আহ্বান করা হলেও দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি।

সূত্রঃ জাগো নিউজ 

আরও পড়ুন