বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণ, বিচার চাওয়ায় ৩৫ বাড়িঘর ভাংচুর

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক এতিম কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই কিশোরীর খালু এ ঘটনার বিচার চাইলে রাতুল, শাহীদ, রাকিব ও মনিরের নেতৃত্বে একদল কিশোর গ্যাং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে নিরীহ গ্রামবাসীর প্রায় ৩৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

 

এ ঘটনায় কিশোরীর খালু বকুল মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ জনের নামে কটিয়াদী মডেল থানায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি রাতুলকে রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।

 

এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে। বুধবার রাতে হামলার সময় অসহায় নারী শিশু ভয়ে ছোটাছুটি করে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

 

জানা যায়, পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের আলী হোসেন নামে এক যুবক জালালপুর ইউনিয়নের এক কিশোরী এতিম মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কটিয়াদীতে একটি ঘর ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে। বিয়ে না করে ৪-৫ দিন পর কিশোরীকে ওই ভাড়া বাড়িতে রেখে আলী হোসেন নিজ বাড়িতে চলে আসে।

 

আলী হোসেন পুনরায় কটিয়াদীতে ফিরে না যাওয়ায় নিরুপায় হয়ে মেয়েটি তার মামা বাদল মিয়াকে জানান। এ ঘটনার পর বাদল মিয়া তার ভগ্নিপতি ও মেয়েটির খালু পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের বকুল মিয়াকে এর প্রতিকার চাইতে বলেন। বকুল মিয়া এলাকার লোকজন নিয়ে আলীকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে অস্বীকার করে এবং তাদেরকে প্রতিহত করতে বিষয়টি নিয়ে শহীদ, রাতুল, রাকিব, মনির গংদের নিয়ে রাতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। এ সময় বাড়ি ঘর ছেড়ে মানুষ পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা লুটপাট করে।

 

সাবেক ইউপি সদস্য খুরশিদ আলম যুগান্তরকে জানান, সন্ত্রাসীরা গ্রামের ৩৫টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছেন হবি মিয়া, বাবুল মিয়া, সাইদুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, বাদল, রহিম উদ্দিন, আব্দুল মান্নানের দোকান, সুনাম উদ্দিনের বাড়ি, রাজুমিয়া, হালিমা, বকুল, মঞ্জিল, আবু তাহের, ইসরাইল, আসাদ, শেখ ফরিদ, নজরুলসহ আরো অনেকে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

 

কটিয়াদী থানার ওসি এসএম শাহাদাত হোসেন যুগান্তরকে জানান, এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের এবং মামলার প্রধান আসামি রাতুলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন