আল জাজিরা-এপির কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দিল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বেসামরিক ও আবাসিক স্থাপনা টার্গেট করে বেপরোয়া হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী এবার মিডিয়া হাউসগুলোর কার্যালয় ভবনেও আক্রমণ চালিয়েছে। শনিবার (১৫ মে) এমনই এক হামলা চালিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কার্যালয় ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

 

শনিবার সন্ধ্যায় আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে গাজার ১১তলা বিশিষ্ট আল-জালা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভবনটিতে আল-জাজিরা, এপিসহ কিছু মিডিয়া অফিসের কার্যালয় ছিল। ছিল কিছু আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টও।

 

আল জাজিরার লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, ইসরায়েলি বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমায় মুহূর্তেই ভবনটি ধসে পড়ে। তখন ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছিল।

 

গাজা থেকে নিয়মিত রিপোর্ট করতে থাকা আল জাজিরার সাংবাদিক হ্যারি ফাওসেট আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এটা আমাদের সবার জন্যই ভীষণ ব্যক্তিগত মুহূর্ত। এখানে যা যেভাবে ঘটেছে, তা আমরা কখনো ভাবতেও পারি না।’

 

The 11-storey residential building called Al-Jalaa has now collapsed. pic.twitter.com/VUFxxJCuW3pic.twitter.com/VUFxxJCuW3

 

— Arwa Ibrahim (@arwaib) May 15, 2021

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আল জাজিরার সাংবাদিক সাওফাত আল-কাহলৌত বলেন, ‘আমি এখানে ১১ বছর ধরে কাজ করছি। অনেক কিছুই আমি ভবনটি থেকে কাভার করেছি। আমরা এখানে ব্যক্তি ও পেশাজীবী—উভয়ভাবে থেকেছি। কিন্তু মাত্র দুই সেকেন্ডে, সব শেষ হয়ে গেছে।’

 

তবে এমন বিপর্যয়কর ঘটনা সত্ত্বেও সংবাদ পরিবেশনে আল জাজিরার সাংবাদিকরা থামেননি জানিয়ে তিনি বলেন, এতো মন খারাপ সত্ত্বেও আমাদের কোনো সহকর্মী এক সেকেন্ডের জন্যও থামেননি—বরং খবর পরিবেশনের বিকল্প উপায় খুঁজে নিয়েছেন তারা।’

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, ষষ্ঠ দিনের মতো গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। তারা শনিবার সকালে গাজার একটি শরণার্থী শিবিরেও বোমা হামলা করেছে। এতে অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের ৮ জনই শিশু। আর গত ১০ মে থেকে শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোট ১৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৯ জনই শিশু। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৫০ জন।

 

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকালেও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আরও মরদেহ পড়ে আছে।

 

এদিকে, গাজায় হামলার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ করায় সেখানে অন্তত ১৩ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে মেরেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের আক্রমণে শতাধিক ফিলিস্তিনি আহতও হয়েছেন সেখানে। এমনকি ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত হাইফা শহরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভেও গুলি চালানো হয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি অভিনেত্রী মাইশা আবদ এলহাদিসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার জবাবে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও রকেট ছোড়া অব্যাহত রেখেছে। শনিবার ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর রামাত গান, দক্ষিণাঞ্চলের আশকেলন ও আশদোদ শহরের দিকে রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। এতে এক ইসরায়েলির মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হামাসের রকেট হামলায় নয় ইসরায়েলির মৃত্যু হয়েছে।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন