রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট সহায়তা, ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

১৩ রোহিঙ্গা সদস্যকে এনআইডি কার্ড ও পাসপোর্ট পেতে সহায়তার অভিযোগে কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও তিন পুলিশ পরিদর্শকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়-২ এ মামলাটি করেন উপসহকারি পরিচালক শরীফ উদ্দিন।

এদিকে পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট ও স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করায় ও ১৩ রোহিঙ্গাদের ও মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কক্সবাজারের ১৩ রোহিঙ্গাকে ২০১৮ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি কার্ড পাইয়ে দেন সে সময়ের কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন। এ বিষয়ক একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও জালিয়াতির আশ্রয় নেন তিনি।

এসব এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট নেন রোহিঙ্গারা। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই কাজে সহায়তা করেন তৎকালীন কক্সবাজার পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান, রুহুল আমিন ও প্রভাষ চন্দ্র ধর। বর্তমানে তারা কুমিল্লায় কর্মরত আছেন। অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় আজ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

আসামি রোহিঙ্গা নাগরিকরা হলেন- মো. তৈয়ব, তার তিন ভাই মোহাম্মদ ওয়াসেস, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ রহিম, স্ত্রী নূর হামিদা, সন্তান আব্দুর রহমান, আব্দুস শাকুর, নূর হাবিবা, বোন আমাতুর রহিম, ভগ্নিপতি নুরুল আলম ও বোনের তিন ছেলে মেয়ে আসমাউল হুসনা, আমাতুর রহমান ও মো. ওসামা।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের রোহিঙ্গা জন্মনিবন্ধন বইয়ের চারটি পৃষ্টা এবং জাতীয়তা সনদের বালাম বই ‘গায়েব’ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা সেগুলো যাচাই বাছাই করলে সহজেই তা ধরতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি।

মামলার এক পর্যায়ে বলা হয়, নূর মোহাম্মদ আনছারী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসামিদের রোহিঙ্গা উল্লেখ করে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিলের আবেদন করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে তা যাচাই করতে বলা হলে তৎকালীন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন অভিযুক্তদের পক্ষে ‘শক্তিশালী নথিপত্র’ আছে বলে মতামত দেন।

এছাড়াও আসামিদের ভোটর তালিকা নিবন্ধন ফরম-২ নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত না নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে দুদকের মামলায়।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন