শনাক্ত ৬০৫৮ আড়াই মাসের সর্বোচ্চ

সারা দেশে সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৫৮ জন। এসময় মৃত্যু হয়েছে আরো ৮১ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এক দিনে শনাক্ত রোগীর এই সংখ্যা গত আড়াই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ১৩ এপ্রিল এক দিনে ৬ হাজার ২৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। আজ সেই সংখ্যাটিও ছাড়িয়ে গেল। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যু। গতকালের তুলনায় আজ নতুন রোগীর সংখ্যা বেড়েছে তিনশর বেশি। বুধবার দেশে ৫ হাজার ৭২৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসময় আরো ৮৫ জনের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৩০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গ নিয়ে ৯ জন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া, বগুড়ায় তিনটি হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এদিকে, সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৪১ জনেরই করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার শতভাগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ জুন তা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বছরের মার্চ থেকে করোনা সংক্রমণ আবার বেড়ে যায়। মার্চের প্রথমার্ধেই দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হাজারের ওপরে চলে যায়।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এ বিধিনিষেধে মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন