সর্বোচ্চ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ছাড়ালো ১০ লাখ

দেশে করোনা সংক্রমণের ৪৮৮ তম দিনে রেকর্ড ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৩২৪ জন। ফলে দেশে মোট করোনাক্রান্ত রোগী ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ লাখ ৫৪৩ জন।

 

শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

সূত্রমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) একদিনে দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৬৫১ রোগী শনাক্ত হয়। এর আগে ৬ জুলাই ১১ হাজার ৫২৫ জনের করোনার ধরা পড়ে।

 

গত ৭ জুলাই দেশে করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০১ জনের মৃত্যু হয়। গতকাল মৃত্যু হয় ১৯৯ জনের। যা সংখ্যার হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু।

 

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২৪ ঘণ্টার নতুন মৃত্যু নিয়ে দেশে এখনও পর্যন্ত মহামারিতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৪ জনের।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৩৮ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হলেন আট লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ জন।

 

২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৯ শতাংশ আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার এক দশমিক ৬০ শতাংশ।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৩৯ হাজার ২০৯টি আর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ তিন হাজার ২৬৮টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫০ লাখ ৪৯ হাজার ২০৩ টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫টি।

 

২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২১২ জনের মধ্যে পুরুষ ১১৯ জন আর নারী ৯৩ জন। দেশে এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মারা গেলেন ১১ হাজার ২৫৪ জন আর নারী মারা গেলেন চার হাজার ৭৫০ জন।

 

তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ রয়েছেন ৯০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সাতজন আর ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছে দুইজন।

 

২১২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৫৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৩ জন, খুলনা বিভাগের ৭৯ জন, বরিশাল বিভাগের পাঁচজন, সিলেট বিভাগের ছয়জন, রংপুর বিভাগের ১২ জন আর ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন আটজন।

 

আর ২১২ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬০ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৬ জন আর বাড়িতে মারা গেছেন ১৬ জন।

 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইডিসিআর জানিয়েছে, গত জুন মাসে দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশই ডেল্টা ধরনের।

 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গতবছর ৮ মার্চ; তা আট লাখ পেরিয়ে যায় এ বছর ৩১ মে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৬ জুলাই ১১ হাজার ৫২৫ জনের করোনার ধরা পড়ে।

 

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ মে তা ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডও-মিটারের শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকেলের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে করোনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখ ২৮ হাজার ৯০২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৭ কোটি ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৩ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৯৭ জন। ভাইরাসে মোট সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০২ জন।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন