আজ পবিত্র হজ

পবিত্র হজ পালনের অংশ হিসেবে আজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন হাজিরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে আরাফাতের ময়দান। মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বানদার বালিলাহ পাঠ করবেন খুতবা, যা অনুবাদ হবে বাংলাসহ ৯টি ভাষায়।

এই আরাফাত ময়দানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে মুসলিম জাতির উদ্দেশে নির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। এছাড়া মুসলমানদের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) এবং মা হাওয়ার স্মৃতি বিজড়িত মিলনস্থলও এই আরাফাত ময়দান।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন: আরাফাত ময়দানে অবস্থান মানে হজ। যে মুসলমান মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করে ফজরের নামাযের পূর্বে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাবে তার হজ পূর্ণ হয়ে যাবে।

আরাফাত ময়দানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা পাঠ করবেন কাবা শরীফের ইমাম ও খতিব শায়খ ডঃ বান্দার বালিলাহ। বাংলা ভাষা সহ ১০টি ভাষায় হজের খুতবা অনুবাদ করে প্রচার করা হবে। প্রথমবারের মতো খুতবা বাংলা অনুবাদ করবেন মক্কা ইসলামিক সেন্টারের কর্মরত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার মাওলানা আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান।

এবারের হজে কত সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করছেন সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যা না জানা গেলেও সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডঃ মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম-বার, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাজমুল হক কাউন্সিলর (শ্রম) মোঃ আমিনুল ইসলাম হজে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার দ্বিতীয়বারের মতো স্বল্প পরিসরে হজ পালন অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে। গতবছর ১০হাজার হজ্বযাত্রী দিয়ে হজ্ব সম্পাদন হলেও এ বছর ৬০ হাজার হজযাত্রীকে লটারির মাধ্যমে হজ পালন করার সুযোগ করে দিয়েছেন সৌদি সরকার, সেজন্য নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হজ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে হজের সাথে সংশ্লিষ্ট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অবৈধভাবে হজ পালন রোধে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগ থেকেই অনুমতি ছাড়া হজ্ব পালন না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে সরকার।

আরাফাতের ময়দানে সারাদিন কাটানোর পর সন্ধ্যায় মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন হাজিরা। মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় শেষে রাতে মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে থাকবেন তাঁরা। সেখানে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন। মঙ্গলবার ফজরের নামাজ পড়ে ফিরবেন মিনায়। শয়তানকে পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে গোসল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। ইহরাম ত্যাগের মাধ্যমে হজের মূল কার্যক্রম শেষ করবেন হাজিরা।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন