লোকসানের মুখে চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

এবারও চামড়ার নায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ মৌসুমি বিক্রেতাদের। কোরবানির পর চামড়া সংগ্রহ চলছে পুরোদমে। তবে এবার চামড়ার পরিমাণ এবং দাম গতবারের চেয়ে কম বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা। ফলে সাধারণ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের মুখে পড়ছেন।

 

বুধবার কোরবানি শেষে রাজধানীর আশপাশের এলাকা থেকে পোস্তায় চামড়া নিয়ে আসেন তারা। মৌসুমি বিক্রেতাদের দাবি, প্রতিটি চামড়া ৫ থেকে ৬শ টাকায় কেনা হলেও, বিক্রি করতে হচ্ছে কেনা দামেই।

 

চামড়ার মৌসুমি বিক্রেতা ইউনুস বলেন, গতবার যে চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ছিল, এবার তা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দাম দিতে চাচ্ছেন আড়তদারেরা। এখন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

 

তবে আড়তদাররা বলছেন, দাম তেমন কমেনি। সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন তারা।

 

কোরবানির পশুর চামড়া থেকেই প্রায় ৮০ ভাগ চামড়া সংগ্রহ করে থাকেন ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা। ফলে রাজধানীর বড় চামড়ার বাজার পোস্তা থেকে একটা বড় অংশ সংগ্রহ করেন আড়তদাররা।

 

বুধবার দুপুর থেকে ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে ট্রাক ভর্তি চামড়া এনেও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া সরকার নির্ধারিত দামের অনেক কম দামে চামড়া নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

 

বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কিন মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন তারা। তবে যারা কম দামে চামড়া কিনছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিৎ বলেও জানান কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা।

 

এ বছর লবনযুক্ত প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, যা গত বছর ছিলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ছাগলের চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ১৫ থেক ১৭ টাকা পর্যন্ত।

 

করোনাকালের আগের বছর, ২০১৯ সালে দেশে কোরবানি পশুর চামড়া নিয়ে হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দাম না পেয়ে ১০-১৫ শতাংশ গরুর চামড়া সড়কে ফেলে এবং মাটিতে পুঁতে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার সময়মতো লবণ না দেয়া, বৃষ্টি ও গরমের কারণেও ২০ শতাংশ গরুর চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া চামড়ার আর্থিক মূল্য ছিল কমপক্ষে ২৪২ কোটি টাকা।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন