একদিনে ২৫৮ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

দেশে করোনা বিষয়ক অনেকগুলো রেকর্ড হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এক দিনে দেশের ইতিহাসে ২৫৮ জনের মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে।

 

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫২ হাজার ৪৭৮। এতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৯২৫। শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। উক্ত সময়ে মারা গেছেন ২৫৮ জন। এতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৯ জন।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৩৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ ১০ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ জন।

 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম মৃত্যুর আড়াই মাস পর গত বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ অগাস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা।

 

এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়।

 

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই এক হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটলে গত ১৫ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে মাত্র দশ দিন সময় নেয় করোনাভাইরাস। মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল।

 

তার ১৬ দিন পর ১১ মে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার এক মাস পর ১১ জুন তা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছিল। এর ১৫ দিন পর ২৬ জুন এই সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ৪ জুলাই ১৫ হাজার ছাড়ায় মৃত্যু। মাত্র ছয় দিন পরে গত ৯ জুলাই মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়ায়। গত ১৪ জুলাই এ সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পাঁচ দিনের মাথায় ১৯ জুলাই মৃত্যু ছাড়ায় ১৮ হাজার। এর পাঁচ দিন পর ২৪ জুলাই মৃত্যু ছাড়ায় ১৯ হাজার।

 

 

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় ২২ জুন থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই প্রচেষ্টায় ঢাকার আশপাশের চারটি জেলাসহ মোট সাতটি জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের চলাচল ও কার্যক্রম ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

তবে এরপরো করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৮ জুন থেকে সারা দেশে সব গণপরিবহন ও মার্কেট-শপিং মল বন্ধ করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন, বন্ধ রয়েছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। সর্বাত্মক লকডাউন ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ঈদ উপলক্ষে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিলের ঘোষণা দেয় সরকার। ২৩ জুলাই শুরু হয় আবারো লকডাউন যা চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন