পরীমনিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যা বললো র‍্যাব

আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ

রাজধানীর বনানী থেকে মাদকসহ আটক নায়িকা পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন করছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটি র‌্যাবের সদরদপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় মিনিবার ছিল, যেখানে ডিজে পার্টি করা হতো। সেখানে মাদক গ্রহণ চলতো নিয়মিত। এমনকি তিনি ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন বলেও জানা যায়। আর চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ পরীমনির বাসায় এসব মাদক সরবরাহ করতেন।

র‍্যাব আরও জানায়, গত ৩ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মোঃ মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রাজধানী অভিজাত এলাকার গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টি আয়োজনের বেশ কয়েকটি স্থানের তথ্য প্রদান করে। সেসব এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১ এর অভিযানে ৪ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে পরীমনি (২৬), নজরুল ইসলাম রাজ (৩৯) সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যরা হলেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম দীপু (২৯) ও মোঃ সবুজ আলী (৩৫)। অভিযানে উদ্ধার করা হয় একটি মিনিবার পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ও ৩৩ বোতল বিভিন্ন প্রকার বিদেশী মদসহ দেড় শতাধিক ব্যবহৃত বিদেশী মদের বোতল, ইয়াবা ও শিশা সামগ্রী, এলএসডি, আইস ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরীমনি জানান, পিরোজপুরের কলেজে (এইচএসসি) অধ্যয়নরত অবস্থায় চিত্রজগতে প্রবেশ করেন তিনি। এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা এবং ৫/৭টি টিভিতে অভিনয় করছেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার শামসুর নাহার পরীমনি ২০১৬ সাল থেকেই অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন। তার মাত্রাতিরিক্ত সেবনের চাহিদা মেটানোর জন্য বাসায় মিনিবার স্থাপন করা হয়। নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করত এবং পার্টিতে অংশগ্রহণ করত বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

এদিকে নজরুল ইসলাম রাজকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ১৯৮৯ সালে খুলনা থেকে দাখিল পাশ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারী কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি শোবিজ জগতেও তার অনুপ্রবেশ ঘটে। বিভিন্ন সিনেমা/নাটকে তিনি নানা চরিত্রে অভিনয়ের সাথে সাথে নামে বেনামে প্রযোজনায় যুক্ত হন। রাজ মাল্টি মিডিয়া নামেও তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক জগত ও চিত্র জগতের দুই ক্ষেত্রে তার সংযোগ থাকায় তিনি অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজ অবস্থানের অপব্যবহার করেন।

নজরুল ইসলাম রাজ শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান এবং মোঃ মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগীতায় ১০-১২ জনের একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেন। এই সিন্ডিকেটটি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। এই পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিপুল পরিমান অর্থ পেয়ে থাকেন।

এছাড়া এই সিন্ডিকেটটি বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করে থাকতো। একইভাবে উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্য দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরণের পার্টির আয়োজন করা হতো। পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তিদের চাহিদা অনুযায়ী পার্টিগুলো আয়োজন করা হতো।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন