বাংলাদেশ পারমাণবিক বিশ্বে নাম লেখাল

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পারমাণবিক বিশ্বে নিজেদের দেশের নাম লেখাতে পেরেছি। অবশ্য আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করব।

 

রবিবার (১০ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি কনফারেন্সের মাধ্যমে রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তান আমলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পাকিস্তান সরকার তা করেনি। সব টাকা তারা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সবকিছু থেমে যায়। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গঠন করাই ছিল বঙ্গবন্ধু মূল লক্ষ্য। রাশিয়া সফরকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়। তিনি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নিরাপত্তায় দূষিত বজ্র ব্যবস্থাপনা সব কাজ রাশিয়ায় করবে এই চুক্তি হয়েছে। কেউ কেউ বুঝে, না বুঝে নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অনেক কথা বলে ফেলে এবং লিখে ফেলে। ভবিষ্যতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কাজ করার জন্য এদেরকে মানুষকে প্রশিক্ষণ এবং ট্রেনিং দিয়ে আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরবরাহ লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। ২০২৩ সালের মধ্যে সরবরাহ লাইন নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিএনপির শাসনামলে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়নি। তারা বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের কথা বলে লুটপাট ও দুর্নীতি করেছে।

 

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, বিজ্ঞান নিয়ে বহু বছর ধরে রাশিয়া যে উৎকর্ষতা অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতাই রূপপুরে কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা নেয়ার মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পকে পুরোপুরি নিরাপদ করা হয়েছে।

 

প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দ এবং গর্বের। রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল চূড়ান্তভাবে স্থাপনের জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সারা বিশ্বের পারমানবিক প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইন্টারন্যাশনাল এ্যাটমিক এ্যানার্জি এ্যাসোসিয়েশনের (আইএইএ) গাইড লাইন অনুযায়ি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ চলছে। রূপপুর প্রকল্পে আইএইএ এর কড়া নজরদারি রয়েছে ৷ তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

 

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে ১৯৬১ সালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়া আর অগ্রসর হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপপুরে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই প্রক্রিয়া থেমে যায়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ডক্টর এম এ ওয়াজেদ মিয়া ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়া আবারও হোঁচট খায়। অবশেষে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর আবার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়-যার এখন পর্যন্ত অগ্রগতি রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কাজের উদ্বোধন। আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

টুয়েন্টিফোর বাংলাদেশ নিউজ/এসকে
আরও পড়ুন