দগ্ধ ১২৪ যাত্রীকে বরিশাল ও ঝালকাঠি হাসপাতালে ভর্তি

ঝালকাঠিতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১২৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৭ যাত্রীকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালেও ভর্তি আছেন ৪৩ জন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি থাকা বেশিরভাগ রোগীর হাত-পা ও মুখমণ্ডল দগ্ধ হয়েছে; চেষ্টা চলছে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের। তবে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় দগ্ধদের চিকিৎসা চলছে সার্জারি ইউনিটে।

শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ঝালকাঠিতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা শুরু হয়। এদের বেশিরভাগের হাত-পা এবং মুখমণ্ডল দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ।

এদিকে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, শুরু থেকেই তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ৫০ জন চিকিৎসক ও নার্সকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে চেষ্টা চলছে দগ্ধ রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার।

গত রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠিতে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আগুন গোটা লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে দগ্ধ হন লঞ্চের দেড় শতাধিক যাত্রী। প্রাণে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দেন আরো অনেকে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান জানিয়েছেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে ৫০ সদস্যের একটি দল বরিশালে আসছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা অভিযান-১০ নামের লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন। মৃত ও আহত ব্যক্তিরা বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন