লঞ্চে আগুনের কারণ ইঞ্জিনের ত্রুটি: তদন্ত কমিটি

সুগদ্ধা নদীতে লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত ইঞ্জিনের পিস্টন সিলিন্ডার থেকে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত ৩ তদন্ত কমিটির সবাই বলছে, আগুনের কারণ ইঞ্জিনের ত্রুটি। তবে ৩ দিনের প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ করতে পারেনি নৌ মন্ত্রণালয়ের কমিটি, সময় লাগতে পারে আরো এক থেকে দুই সপ্তাহ।

নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, “আমরা এখনো প্রাথমিকভাবেই বলছি যে, হয়তো ইঞ্জিন রুম থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরবর্তিতে আরো কিছু আনুসঙ্গিক ঘটনার কারণে আগুনের বিস্তার এতো বেশি হয়েছে।”

এ ছাড়া কাগজে-কলমে লঞ্চটি যে মাস্টারের (চালক) চালানোর কথা ছিল, তিনি চালাচ্ছিলেন না বলেও জানা গেছে। লঞ্চে মাস্টার নিয়োগের বিষয়টি নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হয়।

বরগুনার সজীব। মা-ভাইসহ নিজে প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ পরিবারের তিন সদস্য। পুড়ে যাওয়া লঞ্চে ঘুরছেন তিনি, যদি মিলে যায় প্রিয়জনের কোনো স্মৃতি।

সে দিনের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সজীব বলেন, “কই থেকে যে আগুন লাগছিলো তা বলতে পারবো না। কিন্তু দেখলাম হুট করে একটা আগুনের ফুলকি উঠতে শুরু করে। আর তা দেখে তারা লঞ্চের আরেক পাশে যাওয়ার পরেই সব অন্ধকার হয়ে যায়।”

তবে, কোথা থেকে আগুনের শুরু আর কেনই-বা ছড়িয়েছে এত দ্রুত- সে প্রশ্নে জবাব লুকিয়ে আছে ইঞ্জিন রুমে। দেখা গেল ইঞ্জিনের ৬ পিস্টন সিলিন্ডারের একটিতে ছিদ্র। মিলেছে তেলের ড্রাম বিস্ফোরণের আলামত।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা বলছেন, লঞ্চ ছাড়ার পর পাটাতন এতোই গরম হচ্ছিল যে অনেকে দোতলার ডেকে থাকতে পারেননি।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ জানতে মাঠে আছে ফায়ার সার্ভিস, বরগুনা জেলা প্রশাসন এবং নৌ মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটি। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনের ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য দিচ্ছে তারা। তবে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন মিলছে না নির্ধারিত সময়ে।

এদিকে তদন্ত দল জানতে পেরেছে, আগুন লাগার সময় লঞ্চটির প্রধান দরজা বন্ধ ছিল। যে কারণে জ্বলন্ত অবস্থায় লঞ্চটি নদীতীরের কাছে নোঙর করলেও যাত্রীরা প্রধান দরজা থেকে বের হতে পারছিলেন না। যে যেভাবে পেরেছেন, জানালা দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন।

আরেক সূত্রে জানা গেছে, লঞ্চের ইঞ্জিন বদলের বিষয়টি জানানো হয়নি অধিদপ্তরকে। চালক নিয়োগেও হয়েছে অনিয়ম।

ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চ অভিযান-১০ ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদী অতিক্রমের সময় শুক্রবার ভোররাতে এতে আগুন লাগে। এতে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহতও হয়েছে বহু।

আরও পড়ুন