২৪ বাংলাদেশ নিউজ
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন ও আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. রাজনীতি
  9. সারাদেশ
  10. হ-ব্রেকিং
আজকের সর্বশেষ খবর

ত্যাগ, সংগ্রাম, ধর্মভীরুতা ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতি

সৈয়দ এনামুর রকিব (জামালপুর) :
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জামালপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি নাম—খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথ, সংগঠন ও আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই ত্যাগী নেতা এবার জামালপুর পৌরসভা-এর মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন।
পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটার, ব্যবসায়ী, তরুণ ও সমাজসচেতন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার ক্লিন ইমেজ, ধারাবাহিক ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার কারণে তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে আগ্রহী একটি বড় অংশের নাগরিক।
খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ছাত্রজীবনেই। সরিষাবাড়ি রিয়াজ উদ্দীন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে এইচএসসি শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন। ১৯৮৮ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজপথে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হন। সহপাঠী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, সেই দমন-পীড়ন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং আন্দোলনে আরও দৃঢ় করে তোলে।
১৯৯২ সালে তিনি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। সংগঠন বিস্তার, কর্মী সমন্বয় ও আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৮ সালে জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার সাংগঠনিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
ছাত্ররাজনীতি থেকে মূল ধারার রাজনীতিতে এসে তিনি ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। প্রথমে জেলা বিএনপির সদস্য, পরে ২০১০ সালে ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, ২০১৮ সালে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৫ সালের জেলা সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ বছরে দলের ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন, মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে ছয়টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং এক পর্যায়ে প্রায় এক মাস কারাবন্দী থাকেন। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে এম কম ডিগ্রি অর্জন করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ভবিষ্যতে নগর পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাকে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল একজন ধর্মভীরু ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত নামাজ আদায় ও সামাজিক ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণে তিনি ভদ্র, শান্ত ও সহজপ্রাপ্য—এমন মন্তব্য করেছেন অনেকে।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। পরিবার, রাজনীতি ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলছেন বলে জানান তার ঘনিষ্ঠজনরা।
জেলা রাজনীতিতে তার আরেকটি পরিচয়—তিনি জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের বিশ্বস্ত সহকর্মী হিসেবে পরিচিত। সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে পৌর এলাকার নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেক পৌরবাসীর মতে, মাঠের রাজনীতি জানা ও নৈতিকভাবে দৃঢ় একজন নেতা মেয়র হলে পৌর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, ত্যাগ, সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ক্লিন ইমেজের সমন্বয়ে খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল এখন জামালপুর পৌর রাজনীতির একটি আলোচিত নাম। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তাকে ঘিরে সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশাও তত বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থান কতটা দৃঢ় হয় এবং পৌরবাসীর আস্থা কতটা তিনি অর্জন করতে পারেন।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি