জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরের নারী সদস্যদের জিম্মি করে নগদ সাড়ে সাত লাখ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ জমির কাগজপত্র এবং দুটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা আমতলী গ্রামে ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ছাগল পাটক্ষেতে ঢুকে ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলাম বাদশার পরিবারের সঙ্গে সোলায়মান হক গংদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওইদিন উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলাম বাদশাসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত জয়নাল আবেদীন ও নজরুল ইসলাম বাদশাকে প্রথমে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদীন ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার গভীর রাতে সোলায়মান হকের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা নজরুল ইসলাম বাদশার ছেলে বাবু মিয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর তার মা নাজমা আক্তারের হাত-পা বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় এবং স্ত্রী লিমা আক্তারের গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করা হয়। এ সময় ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও দুটি গরু নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত নাজমা আক্তার বলেন, “আমাকে হাত-পা বেঁধে মেঝেতে ফেলে রাখা হয়। এরপর ঘরের স্টিলের ট্রাংক ভেঙে সাড়ে সাত লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।”
বাবু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার মা ও স্ত্রীকে জিম্মি করে ঘরে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির কাগজপত্র লুট করার পাশাপাশি দুটি বড় গরুও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম ইসলামপুর থানায় পৃথক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে হামলার সঙ্গে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত সোলায়মান হকের বাড়িতে গিয়ে কোনো পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। সেখানে থাকা তার স্ত্রী রিক্তা বেগম জানান, সোলায়মান হক বর্তমানে জামালপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গভীর রাতের ঘটনার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্গম চরাঞ্চলে এ ধরনের হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
