দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি। গত সপ্তাহে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমার এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এ অবস্থায় শুক্রবার রাতে নতুন করে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল ও ভারত।
নেপালের জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টা ৭ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জাজারকোট জেলার পাইক এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
ভূকম্পনটির রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.২। ভূপৃষ্ঠ থেকে কম্পনের উৎসস্থল ছিল প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কম্পনের তীব্রতা রাজধানী কাঠমান্ডুসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও অনুভূত হয়। নেপালের ভূকম্পনটি সীমান্ত পেরিয়ে প্রভাব ফেলে প্রতিবেশী ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডসহ বেশ কিছু এলাকায়। মানুষ আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর এক সপ্তাহ আগেই ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মিয়ানমার। দেশটিতে প্রাণ হারান তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে তিনশ জন। ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও।
দক্ষিণ এশিয়ায় ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় অঞ্চলের জনগণের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিকরা বলছেন, টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষজনিত কারণে এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প হওয়া স্বাভাবিক, তবে সতর্কতা এবং প্রস্তুতি বাড়াতে হবে সব দেশকে।